রূপক গল্প

ছায়া সংসদ

লুই কানের স্থাপত্যের অদৃশ্য সমাবেশ

জাতীয় সংসদ ভবনের মার্বেল আর কংক্রিটের জ্যামিতিক নকশার ভেতর প্রতি মধ্যরাতে বসে এক গোপন সভা, যা দেশের অদৃশ্য ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

জাতীয় সংসদ ভবনের বিশাল মার্বেল পাথরের তৈরি করিডোরে যখন রাত গভীর হয়, তখন চারপাশের নীরবতা এক অদ্ভুত গম্ভীর রূপ ধারণ করে। লুই কানের সেই অনন্য জ্যামিতিক খিলান আর আলোর খেলা রাতের অন্ধকারের ভেতরে তৈরি করে শত শত আলো-ছায়ার নাটক। অভিজ্ঞ সিনিয়র সংসদীয় প্রতিবেদক রাশেদ চৌধুরী তার প্রেস ব্রিফিং শেষ করে করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।

রাত পৌনে একটায় মূল সংসদের অধিবেশন কক্ষের ভারী ওক কাঠের দরজার ফাঁক দিয়ে হঠাৎ একটি ক্ষীণ নীলচে আলো চোখে পড়ল। রাশেদ সাবধানে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। ভেতরে শোনা যাচ্ছিল বহু কণ্ঠের এক অস্ফুট বিতর্ক — যেন কোনো আইন পাস করার তীব্র আলোচনা চলছে। অথচ তিনি নিশ্চিত জানতেন যে, গোটা ভবনটি রাত দশটাতেই সিল করে দেওয়া হয়েছে।

মার্বেল পাথরের বিতর্ক

রাশেদ দরজাটা সামান্য ঠেলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল এক দৃশ্য। অধিবেশন কক্ষের খালি আসনগুলোতে কোনো বাস্তব মানুষ নেই; কিন্তু ছায়াগুলো জীবন্ত মানুষের মতো নড়াচড়া করছে। সংসদীয় দলিলপত্রের পাতাগুলো বাতাসে উল্টে যাচ্ছে এবং স্পিকারের চেয়ারের ওপরে ফুটে উঠছে এক সৌম্য আলো।

সেই ছায়া সংসদ আসলে কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নয়; এটি হলো এই দেশের জন্মলগ্নে রচিত সংবিধানের সেই মূল চার নীতির অবিনশ্বর আত্মা — গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ। যতবারই দেশ কোনো কঠিন সংকটের মুখোমুখি হয়, এই ঐতিহাসিক ভবনের প্রতিটি পাথর যেন সেই মূল ভিত্তিকে রক্ষা করার জন্য নিজেদের মধ্যে এক নিঃশব্দ অঙ্গীকারে জেগে ওঠে। রাশেদ পরম শ্রদ্ধায় সেই দরজার সামনে মাথা নত করলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক কলাভবনের করিডোরগুলোতে যখন সান্ধ্য আলো নেমে আসে, তখন রাজনীতির গভীর দার্শনিক বিতর্কগুলো এক অনন্য রূপ ধারণ করে। একদল তরুণ গবেষক ও ছাত্র একত্রিত হয়ে শুরু করেছিল এক বুদ্ধিবৃত্তিক ছায়া সংসদ — যেখানে সমকালীন সংকটগুলোর তাত্ত্বিক ও নীতিগত সমাধান নিয়ে গভীর বিতর্ক চলত।

ফারহান আজমী সেই ছায়া সংসদের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন। তারা প্রমাণ করেছিলেন যে রাজনীতি কেবল পেশিশক্তি বা ক্ষমতার লড়াই নয়; রাজনীতি হলো মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের পরম দায়িত্ব।

মধ্যরাত পর্যন্ত চলা সেই প্রাণবন্ত বিতর্কগুলো একসময় রূপ নিল একটি বাস্তব গবেষণা নীতিমালায়, যা পরবর্তীকালে জাতীয় উন্নয়ন