তিনশো দরবেশের গান
Shireen Akhtar
মধ্যযুগীয় পুঁথির সুরে রচিত দরবেশদের আত্মানুসন্ধানের পদাবলী।
১. নদীর ঘাটে দরবেশ
যে নদী চেনে না তার নিজের বাঁকের নাম, তার কাছে কীসের আশায় জমা রাখো দীর্ঘ প্রণাম? তিনশত দরবেশ বসিলা নদীর ওপারে এক রাতে, জলের ছায়ায় চাঁদ জ্বলে নিঃশব্দ এক হাতে। আলখাল্লায় মাখা নোনা পলির মেঠো সুবাস, চোখে তাদের অনন্ত মহাকালের দীর্ঘশ্বাস।
২. আলখাল্লার সীমানা
দুনিয়ার ধনরত্ন যদি হয় মাটির কুঁড়েঘর, তবে কেন এই হৃদয় করে পরবাসী বালুচর? বাতাসে ওড়ে ছিন্ন সুতো আর নিঃসঙ্গ প্রার্থনা, যে জন হারিয়েছে নিজের নাম, তার কোনো ভয় না। পথিক এসে শুধায় কোথা তোমার আসল দেশ? নীরব হাসিতে মিলিয়ে যায় বৃদ্ধ দরবেশ।
৩. জোয়ারের চেরাগ
মাটির প্রদীপে তেল নেই, তবু শিখা কেন জ্বলে? সত্যের আলো নিভে না কভু আঁধার নদীর জলে। বহুদূর থেকে ভেসে আসে এক অজানা বাঁশির সুর, যে সুরে মিশে আছে বাংলার সুদূর ও নিকটপুর। অহংকার যদি হয় পাথরের তৈরি প্রাচীর, মমতার এক বিন্দুতে গলে যায় লৌহজঞ্জীর।
৪. শেষ রাত্রির মোনাজাত
হে পরম করুণাময়, এই ডেল্টার তুমিই চিরন্তন প্রভু, ভাঙাগড়ার খেলায় মোরা তোমায় ভুলি না কভু। যে নদী নিয়ে যায় ঘর, সে-ই আবার জাগায় পলি, তোমার রহমতের কাছে এই অন্তরের দুঃখ বলি। শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় যখন সূর্য হাসে, দরবেশের পদচিহ্ন শান্ত নদীর মোহনায় ভাসে।
দরবেশের সাধন পদাবলী
তিনশত দরবেশের স্মৃতিমাখা মাটি, পলি আর সুরে মেশা ভক্তি যে খাঁটি। সুরমার বাঁকে বাঁকে ফোটে কত গান, হৃদয়ের মন্দিরে জেগে থাকে প্রাণ।
শাহজালালের সেই পুণ্য পরশে, কত প্রেম জেগে ওঠে ভক্তির হরষে। মাটির প্রদীপে যদি জ্বলে ওঠে আলো, তবেই তো সংসার হয়ে ওঠে ভালো।
নদী আর পাহাড়ের মিলন মোহনায়, অনন্ত শান্তি যেন ডেকে নিয়ে যায়। মানুষের মাঝে যদি খোঁজোরে খোদায়, তবেই তো মুক্তি মেলে ভব যাতনায়।
নদীর কলতানে বাজে স্মৃতির সেতার, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে অপার সুবাস তার। আমরা তো পলিমাটির মেঠো সুরের গান, এই দেশেই দিয়ে যাব জীবনের সব সম্মান।
সূর্য ওঠে রক্তিম সেই মোহনার বাঁকে, মাটির প্রদীপ জ্বেলে যেজন পথ চেয়ে থাকে। শত দুঃখের মাঝেও মনে ফোটে ভালোবাসা, বাংলাই আমাদের শেষ আশ্রয়, পরম আশা।
মেঘের কোলে দোলে শান্ত ধানের শীষ, ভেজা মাটির বুকে জাগে জীবনের আশিস। নদী আর আকাশের এই মিতালীমেলা, চিরকাল কেটে যাক এমনি হাসিখেলার বেলা।
নদীর কলতানে বাজে স্মৃতির সেতার, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে অপার সুবাস তার। আমরা তো পলিমাটির মেঠো সুরের গান, এই দেশেই দিয়ে যাব জীব