Rupok Stories

ভাটির দেশের সুর

Nabila Khatun

হাওরের জলে ভেসে থাকা জীবনের গান ও বিরহের কবিতা।

১. নাওয়ের মাঝি

উজান গাঙের পানি যখন ভাটির পানে ছোটে, মনের ভেতর হাজার রঙের পদ্মফুল ফোটে। ওরে আমার মনের মাঝি, হালটা শক্ত করে ধর, সামনে দেখ কাশবনের ওই সুন্দর বালুচর। মেঘনা-যমুনার এই অপার মায়ায় আমরা বাঁধা রই, মাটির সুরের চেয়ে বড় আর কোনো আশ্রয় কই?

২. ভাটিয়ালি পদাবলী

যার নাই কোনো কূল-কিনারা, সেই তো আসল নদী, তার সাথে প্রেম জমাইতাম পরান পাইতাম যদি। বৈঠা বাওয়া হাতের পেশি ঘামে ভিজে যায়, নদীর পানি তার মধুর সুরে আমার গান গায়। কোথায় রইলা প্রাণের বন্ধু, কোথায় তোমার ঘর? ভাটির দেশের বাতাস শুধায় কেন তুমি পর?

৩. চরের বসতি

পলিমাটির সোঁদা গন্ধে ভরে ওঠে বুক, ধানের শিষে লুকিয়ে থাকে এই বাংলার আসল সুখ। নদী ভাঙে, নদী গড়ে, এই তো মোদের খেলা, ভাসিয়ে দিলাম স্মৃতির তরী ভোরের এই শুভবেলা।

ভাটিয়ালীর শাশ্বত সুর

ভাটির দেশে মন আমার উড়ু উড়ু করে, কোন অচিন মাঝি গান গায় নদীমাতৃক ঘরে। মেঘনার বাঁকে বাঁকে দোলে শ্যামল ধানের শীষ, বাতাসে ভেসে আসে দূর বটের শিষ।

পলিমাটির ভেজা সুবাস বুকে জড়িয়ে রাখি, নদীর ওপার থেকে ডাকে সোনালী ডাহুক পাখি। আমরা তো নদীপাড়ের চিরদিনের চাতক, জলেই আমাদের জন্ম, জলেই জীবন নাটক।

জোয়ার এলে ভেসে যায় জীবনের সব দুখ, ভাটির গানে জেগে থাকে এক টুকরো সুখ। সুরমা-মেঘনার এই পুণ্য জলধারা, বাংলার মানুষের প্রাণ চিরকাল বাঁধাহারা।

নদীর কলতানে বাজে স্মৃতির সেতার, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে অপার সুবাস তার। আমরা তো পলিমাটির মেঠো সুরের গান, এই দেশেই দিয়ে যাব জীবনের সব সম্মান।

সূর্য ওঠে রক্তিম সেই মোহনার বাঁকে, মাটির প্রদীপ জ্বেলে যেজন পথ চেয়ে থাকে। শত দুঃখের মাঝেও মনে ফোটে ভালোবাসা, বাংলাই আমাদের শেষ আশ্রয়, পরম আশা।

মেঘের কোলে দোলে শান্ত ধানের শীষ, ভেজা মাটির বুকে জাগে জীবনের আশিস। নদী আর আকাশের এই মিতালীমেলা, চিরকাল কেটে যাক এমনি হাসিখেলার বেলা।

নদীর কলতানে বাজে স্মৃতির সেতার, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে অপার সুবাস তার। আমরা তো পলিমাটির মেঠো সুরের গান, এই দেশেই দিয়ে যাব জীবনের সব সম্মান।

সূর্য ওঠে রক্তিম সেই মোহনার বাঁকে, মাটির প্রদীপ জ্বেলে যেজন পথ চেয়ে থাকে। শত দুঃখের মাঝেও মনে ফোটে ভালোবাসা, বাংলাই আমাদের শেষ আশ্রয়, পরম আশা।

মেঘের কোলে দোলে শান্ত ধানের শীষ, ভেজা মাটির বুকে জাগে জীবনের আশিস। নদী আর আকাশের এই মিতালীমেলা, চিরকাল কেটে যাক এমনি হাসিখেলার বেলা।

নদীর কলতানে বাজে স্মৃ