Rupok Stories

বনদেবীর অভিশাপ

মধূপুর গড়ের শালবনের উপাখ্যান

শালগাছ কাটার জন্য যারা অরণ্যের প্রাচীন সীমানা অতিক্রম করেছিল, তাদের কেউ সেই রাত পার করতে পারেনি।

সুন্দরবনের গভীরে চাঁদপাই রেঞ্জের নিষিদ্ধ খাড়িতে কাঠের নৌকা নিয়ে ঢুকেছিলেন লোভী কাঠ ব্যবসায়ী রফিক সওদাগর। বন বিভাগের কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সে এসেছিল প্রাচীন সুন্দরী ও গেওয়া গাছের কাঠ কেটে কোটি টাকার মুনাফা লোটার জন্য। তার সাথে ছিল বিশজন সশস্ত্র কুঠারধারী শ্রমিক।

বনের এক গভীর প্রান্তে তারা দেখতে পেল এক শতবর্ষী বিশাল বটগাছ, যার নিচে স্থাপিত ছিল লোকদেবী বনবিবির এক শ্যাওলাধরা পাথরের বেদি। লাল সুতোয় মোড়ানো সেই বেদি দেখে শ্রমিকরা কাঠ কাটতে অস্বীকার করল। তারা বলল, 'কর্তা, বনবিবির সীমানায় কুঠার চালালে বাঘের থাবা নেমে আসবে।' কিন্তু অহংকারী রফিক নিজের হাতে কুঠার তুলে নিয়ে প্রথম আঘাতটি করল সেই পবিত্র গাছের কাণ্ডে।

অরণ্যের প্রতিশোধ

কুঠারের আঘাত লাগার সাথে সাথেই এক অদ্ভুত হাহাকারে কেঁপে উঠল গোটা ম্যানগ্রোভ অরণ্য। গাছের ছাল থেকে বেরিয়ে এল লাল তরল রস — যা দেখতে হুবহু রক্তের মতো। মুহূর্তের মধ্যে বনের চারপাশের বাতাস বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে গেল। কুয়াশার ভেতর থেকে জ্বলে উঠল একজোড়া জ্বলন্ত হলুদ চোখ।

একটি বিশাল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নিঃশব্দে এসে দাঁড়াল বেদির ওপর। তার মুখ থেকে কোনো গর্জন বের হলো না; সে কেবল রফিকের চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। সেই দৃষ্টিতে ছিল প্রকৃতির এমন এক চরম কর্তৃত্ব যা রফিকের ভেতরের সমস্ত অহংকারকে ধূলিসাৎ করে দিল। ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল রফিক। পরের দিন সকালে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করল বনের মুখে — সম্পূর্ণ অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায়। সে আর কোনোদিন অরণ্যের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পায়নি।

সুন্দরবনের গভীরে বনদেবীর মন্দিরের সামনে যখন বাতাসের বেগ বেড়ে যায়, তখন বনের প্রতিটি পাতা যেন এক অদ্ভুত সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে। বনবিবি কেবল এক পৌরাণিক দেবীর নাম নয়; তিনি হলেন সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্যের এক জীবন্ত প্রতীক — যিনি মানুষের লোভ আর প্রকৃতির অধিকারের মাঝে সীমারেখা টেনে দেন।

শমসের শিকারী একসময় হরিণ ও বাঘ শিকারের লোভে বনের গভীরে নিষিদ্ধ সীমানায় প্রবেশ করেছিল। কিন্তু এক রাতে যখন সে একটি হরিণ শাবককে নিশানা করছিল, তখন ঘন বনের অন্ধকার থেকে নেমে এসেছিল এক অপার্থিব অলৌকিক আলো। সেই আলোর তীব্রতায় শমসের নিজের বন্দুক ফেলে ভয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল। তার কানে ভেসে এসেছিল এক গম্ভীর দৈববাণী: 'প্রকৃতিকে ভালোবাসতে না শিখলে মানুষ কোনোদিন শা